fbpx

একুয়ারিয়াম কিভাবে পরিষ্কার রাখবেন?

আমাদের একটি সখের জিনিস হল একুয়ারিয়াম। শহরকেন্দ্রিক জীবনধারায় ড্রইং রুমে একটি একুয়ারিয়াম সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে নিঃসন্দেহে। ঘরের কোণের একুয়ারিয়ামে জীবন্ত বাহারী রঙের মাছগুলো যখন সাঁতার কাটে তখন দেখতে ভালোই লাগে। কিন্তু একটা সুন্দর, চকচকে, মাছের জন্য সু-স্বাস্থ্যকর একুয়ারিয়াম মেইন্টেন করতে হলে সেটার পিছনে অনেক শ্রম দিতে হবে। এটা ছাড়াও আপনাকে হতে হবে ধৈর্যশীল।

* একুয়ারিয়ামে মাছ রাখতে হলে সবার আগে পানির পরিবেশ ঠিক রাখা চাই। পানির লবণাক্ততা, তাপমাত্রা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মাছের সংখ্যা; এসব কিছুই এই পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

* মাছ মারা যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে চর্মরোগ। মাছ ছাড়ার কিছুদিন পরে দেখা যায় এদের পাখনাগুলোয় সংক্রমণ হচ্ছে।

* এজন্য বিভিন্ন অ্যান্টিসেপ্টিক সলিউশন পাওয়া যায় এবং সেগুলো বিভিন্ন রঙের।

* পানির সঙ্গে ৩-৪ ফোঁটা মিশিয়ে দিতে হয়। এর সঙ্গে পানির পরিমাণ অনুযায়ী লবণ মিশিয়ে দিলে পানিটা এই মাছগুলোর বসবাসের উপযোগী হবে। এই লবণ কিন্তু খাওয়ার সাধারণ লবণ নয়।

* সেই সঙ্গে কমপক্ষে ২ সপ্তাহ পর পর পানি বদলাতে হবে। মনে রাখবেন, এই পানিটা বদ্ধ। সেজন্য পানির পরিবেশের প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে।

* এরপর আপনাকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য পাম্প মেশিন পাওয়া যায়। পাম্প মেশিনটা সব সময় চালু রাখতে হবে, যদি সেটা চার দেয়ালের অ্যাকুরিয়াম হয়। অনেকেই ভাবেন, পাম্পটা বন্ধ করে ঢাকনা খুলে দিলেই হয়ে যায়। ব্যাপারটা ভুল। বদ্ধ পানি, মাছগুলোও জলাশয়ের মাছ থেকে তুলনামূলক দুর্বল। সামান্য ডিজলভড অক্সিজেন এরা গ্রহণ করতে পারে না। তাই পাম্পটি সব সময় চালু রাখতে হবে।

* একুয়ারিয়ামে খুব বেশি মাছ না ছাড়াই ভালো। মাঝারি সাইজের অ্যাকুরিয়ামে ৮-১০টি আর বড় সাইজের ঘর হলে ১৬টির বেশি নয়। এরা নিয়মিত মলত্যাগ করে। বেশি মাছ থাকলে বদ্ধ পানির পরিবেশ খুব দ্রুত দূষিত হয়ে যায়।

* অনেকে মাছকে খাবার দেয়ার সময় ভুল করে থাকেন। এক সঙ্গে অনেক খাবার দিয়ে ফেলেন। কিন্তু এই কাজটি করতে যাবেন না। সামান্য খাবার দিন যা মাছ ৫ মিনিটের মধ্যে খেয়ে ফেলতে পারে। বাড়তি খাবার থাকলে তা পানিতে পচে পানি নষ্ট করে ফেলে।

* কোনো মাছ রোগাক্রান্ত হলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা উচিত। এতে করে বাকি মাছে রোগ ছড়াবে না।

* ১ সপ্তাহ পর পর একুয়ারিয়াম পরিষ্কার করা উচিত এবং অ্যাকুরিয়ামের পানি সপ্তাহে অন্তত দুইবার বদলানো উচিত।

* মাছ পানির নিচে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় থাকে যে তাপমাত্রায় থাকতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অনেক সময় পানির তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে বিশেষ করে শীতকালে। তাই একুয়ারিয়ামের থার্মোমিটার নিয়মিত দেখুন। এতে মাছ মরবে না।

* একুয়ারিয়ামের ছাকনিগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে, কিন্তু এগুলোর কাজ একই এবং তা একুয়ারিয়ামের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করে।

* যে কোনো একুয়ারিয়ামের সজ্জার ক্ষেত্রে একুয়ারিয়ামের পাথর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মাছ একুয়ারিয়ামে রাখা যায় না। বিশেষ কিছু মাছই রয়েছে যেগুলো একুয়ারিয়ামে রাখার জন্যই চাষ করা হয়। যেমন- গোল্ডফিশ, অ্যাঞ্জেল, শার্ক, টাইগার বার্ব, ক্যাটফিশ, গাপ্পি, মলি, ফাইটার, সাকার, সিলভার ডলার, অস্কার, কার্প, হাইফিন নোজ, এলিফ্যান্ট নোজ, টের্টা, অ্যারোনা, রোজি বার্ব, কমেট, কিসিং গোরামি, ব্ল্যাক অরেন্ডা ইত্যাদি।

* তবে একুয়ারিয়ামে গোল্ডফিশ প্রজাতির মাছ রাখতেই বেশি দেখা যায়। এরা বেশ কষ্টসহিষ্ণু ও অক্সিজেন ছাড়া কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বেশি।

* মাছ হাত দিয়ে না ধরে নেট ব্যবহার করুন। লাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, যেন আলো বেশি হয় এবং তাপ কম হয়।

* একুয়ারিয়ামে পাথর কুচির নিচে একটি ওয়েট ডাস্ট ফিল্টার রাখতে হবে। তার সঙ্গে একটি এয়ার এক্সিকিউটর থাকে যেটা দিয়ে বাতাস বের হওয়ার সময় ভিতরে কিছুটা ঊর্ধ্বচাপের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ময়লাগুলো খুব ধীরে ধীরে পাথরের ভিতর দিয়ে ওই ফিল্টারের নিচে গিয়ে জমা হয়। সেক্ষেত্রে একুয়ারিয়ামে সবসময়ের জন্য এই যন্ত্রটি চালিয়ে রাখতে হবে।

* স্পাইডার বা ফাইটার নামক মাছ ছাড়া অন্য সব মাছই এক সঙ্গে রাখা যায়। এই মাছটা একটু মারকুটে স্বভাবের। অ্যাঞ্জেল আর গোল্ডফিশের ওপর এর বিশেষ ক্ষোভ আছে, আক্রমণ করে লেজ, পাখনা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কমেট খুবই শান্ত মাছ। আকারে বড় বলে ফাইটার এদের আক্রমণ করে না।

* একুয়ারিয়ামে ফাইটার রাখতে চাইলে আলাদা কেস কিনে নিতে হবে।

একুয়ারিয়ামের যত্ন নেয়া একটু কষ্টসাধ্য। তবে ওপরের বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে মাছ মরে যাওয়াটা কমে আসবে। তবে মনে রাখবেন, কমেট ছাড়া আর কোনো মাছই খুব একটা বাঁচে না। অ্যাঞ্জেল মারা যাওয়ার হার বেশি।

This entry was posted in Fish and tagged .

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *